বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকা সমূহ | Top 10 Newspaper in Bangladesh
বাংলাদেশে বাংলা ভাষার সংবাদপত্র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী গণমাধ্যম। দেশের স্বাধীনতার পর থেকে বাংলা দৈনিক পত্রিকাগুলো জনগণের কণ্ঠস্বর, তথ্যের প্রধান উৎস এবং সমাজ-রাজনীতির আয়না হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমানে (২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী) প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিলিয়ে শতাধিক বাংলা সংবাদপত্র রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে পৌঁছায়। এদের মধ্যে প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সমকাল, মানবজমিন, নয়া দিগন্ত, দৈনিক ইনকিলাব, জায় জায় দিন এবং কালবেলা অন্যতম। এই পত্রিকাগুলো রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, তদন্তমূলক প্রতিবেদন এবং সামাজিক ইস্যুতে গভীর কভারেজ দেয়, এবং অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়।
বাংলা সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা ও অনলাইন ট্রাফিকের দিক থেকে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও প্রথম আলো প্রায়শই শীর্ষে থাকে, যেখানে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ কপি প্রিন্ট হয় এবং ওয়েবসাইটে কোটি কোটি পেজভিউ হয়। অন্যদিকে ইত্তেফাক ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য, যুগান্তর ও কালের কণ্ঠ বিশ্লেষণমূলক কনটেন্টের জন্য, এবং মানবজমিন ট্যাবলয়েড স্টাইলের জনপ্রিয়তার জন্য পরিচিত। ডিজিটাল যুগে এই পত্রিকাগুলো ফেসবুক, ইউটিউব ও অ্যাপের মাধ্যমে আরও বেশি পাঠককে আকর্ষণ করছে। যদিও রাজনৈতিক চাপ, সেন্সরশিপ ও প্রেস ফ্রিডমের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও বাংলা সংবাদপত্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।
১। দৈনিক প্রথম আলো
প্রথম আলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বৃহত্তম প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর এটি যাত্রা শুরু করে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মতিউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম আলো শুরু থেকেই সাহসী ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার জন্য পরিচিতি লাভ করে। এটি অ্যাসিড সন্ত্রাস, মাদক, এইচআইভি/এইডস এবং ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী প্রচারণা চালিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি অনলাইন পোর্টাল prothomalo.com বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভিজিট হওয়া বাংলা ভাষার ওয়েবসাইট হিসেবে স্বীকৃত, যেখানে প্রতি মাসে কোটি কোটি পেজভিউ হয় এবং ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে পাঠক এটি অনুসরণ করেন।
প্রথম আলো শুধু খবর প্রকাশই করে না, বরং তদন্তমূলক সাংবাদিকতা, সমাজসেবা এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও অবদান রাখে। এটি বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের প্রধান আয়োজক এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে লাখো মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। যদিও রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে, তবুও এর পাঠক সংখ্যা এবং প্রভাব অটুট রয়েছে। প্রিন্ট ও অনলাইন মিলিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ এর ওপর নির্ভর করে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যের জন্য, যা এটিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।
২। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
বাংলাদেশ প্রতিদিন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা হিসেবে পরিচিত। ২০১০ সালের ১৫ মার্চ এটি যাত্রা শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের তালিকায় উঠে আসে। বসুন্ধরা গ্রুপের অধীনস্থ ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ (EWMG) এটি প্রকাশ করে, যার প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী এবং বর্তমানে আবু তাহের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রিন্ট সংস্করণ ছাড়াও bd-pratidin.com অনলাইন পোর্টালটি ২৪ ঘণ্টা লাইভ নিউজ প্রদান করে এবং অ্যান্ড্রয়েড-আইওএস অ্যাপের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে পৌঁছায়। এটি ঢাকা থেকে প্রধানত প্রকাশিত হলেও বগুড়া থেকে উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা এডিশন এবং যুক্তরাষ্ট্রে (নিউ ইয়র্ক) উত্তর আমেরিকান সংস্করণও রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদনসহ সব ধরনের খবরের পাশাপাশি তদন্তমূলক প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে জোর দেয়। এর ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজে (প্রায় ২৫ লাখের বেশি ফলোয়ার) নিয়মিত ভিডিও নিউজ, সাক্ষাৎকার ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা এটিকে ডিজিটাল যুগে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। যদিও কখনো কখনো বিতর্ক বা আইনি চাপের মুখোমুখি হয়েছে, তবুও এর প্রচার সংখ্যা ও পাঠকপ্রিয়তা অটুট রয়েছে। দেশের গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন তথ্যের উৎস হয়ে উঠেছে।
৩। দৈনিক যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তর বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ২০০০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এটি প্রথম প্রকাশিত হয়, স্লোগান নিয়ে “সত্যের সন্ধানে নির্ভীক”। জামুনা গ্রুপের অধীনে জামুনা প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং লিমিটেড এটি প্রকাশ করে, এবং প্রকাশক সালমা ইসলাম। শুরু থেকেই গভীর বিশ্লেষণ, সমৃদ্ধ কনটেন্ট এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনার জন্য এটি পাঠকদের মন জয় করে নেয়। ওয়েবসাইট jugantor.com বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর একটি, যেখানে ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদনসহ সব ধরনের খবর ২৪ ঘণ্টা আপডেট হয়। ফেসবুক পেজে ৯০ লাখেরও বেশি লাইক এবং ইউটিউব চ্যানেলে লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার থাকায় এটি ডিজিটাল মাধ্যমেও ব্যাপক জনপ্রিয়।
যুগান্তর শুধু খবর প্রকাশ করে না, বরং তদন্তমূলক সাংবাদিকতা, মতামত এবং বিভিন্ন ফিচারের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার থাকে। এর প্রিন্ট সংস্করণ ব্রডশিট আকারে চার রঙে মুদ্রিত হয় এবং নিয়মিত ২০ পৃষ্ঠার পাশাপাশি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনও প্রকাশিত হয়। যদিও কখনো কখনো রাজনৈতিক চাপ বা বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছে, তবুও এর প্রচার সংখ্যা ও পাঠকপ্রিয়তা অত্যন্ত উচ্চ, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন তথ্য, বিশ্লেষণ ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠেছে।
৪। দৈনিক কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি এটি যাত্রা শুরু করে, বসুন্ধরা গ্রুপের অধীনস্থ ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশনা হিসেবে। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আবেদ খান, এবং পরবর্তীতে ইমদাদুল হক মিলনের মতো খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে প্রিন্ট সংস্করণে উচ্চ প্রচার সংখ্যা (২০২১ সালে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার কপি) এবং অনলাইন পোর্টাল kalerkantho.com-এর বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে। ওয়েবসাইটটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় খবর প্রকাশ করে, এবং ফেসবুক পেজে প্রায় ৯০ লাখেরও বেশি লাইক, ইউটিউব চ্যানেলে লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার থাকায় ডিজিটাল মাধ্যমে এর প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।
কালের কণ্ঠ রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, শিক্ষা-সংস্কৃতি সহ সব ধরনের খবরের পাশাপাশি গভীর বিশ্লেষণ, তদন্তমূলক প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন ফিচার পাতায় (যেমন অবসর, রঙের মেলা, ঢাকা ৩৬০ ডিগ্রি) জোর দেয়। এর স্লোগান “সম্পূর্ণ সত্য” নিয়ে এটি পাঠকদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস হিসেবে পরিচিত। যদিও কখনো কখনো বিতর্ক বা চাপের সম্মুখীন হয়েছে, তবুও এর প্রচার ও পাঠকপ্রিয়তা ক্রমাগত বেড়েছে, বিশেষ করে শহর ও গ্রামীণ এলাকায়। প্রিন্ট, অনলাইন, ই-পেপার এবং সোশ্যাল মিডিয়া মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন এর ওপর নির্ভর করে সঠিক ও সময়োপযোগী সংবাদের জন্য, যা এটিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে।
৫। দৈনিক ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাক বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ১৯৪৯ সালের ১৫ আগস্ট সাপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে দৈনিক রূপে প্রকাশিত হয়। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও ইয়ার মোহাম্মদ খানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, যার নেতৃত্বে এটি ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। পাকিস্তানি শাসনামলে বারবার সেন্সরশিপ, নিষেধাজ্ঞা ও সম্পাদকের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হলেও এর সাহসী সাংবাদিকতা অটুট ছিল। বর্তমানে ইত্তেফাক গ্রুপ অব পাবলিকেশন্স লিমিটেডের অধীনে প্রকাশিত এটির ওয়েবসাইট ittefaq.com.bd-এ বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে ২৪ ঘণ্টা আপডেট খবর পাওয়া যায়, এবং ফেসবুক পেজে প্রায় ৫৭ লাখেরও বেশি লাইক রয়েছে।
ইত্তেফাক রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সম্পাদকীয় এবং তদন্তমূলক প্রতিবেদনসহ সব ধরনের খবর প্রকাশ করে, যা পাঠকদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও গভীর বিশ্লেষণের উৎস হিসেবে পরিচিত। যদিও ১৯৭০-এর দশকে জাতীয়করণ, পরিবারীয় বিরোধ এবং পরবর্তীতে প্রচার সংখ্যায় কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও পাঠকপ্রিয়তা অম্লান রয়েছে। বর্তমানে সম্পাদক আনোয়ার হোসেন (অথবা সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী তাসমিমা হোসেন বা অন্যান্য) এবং উপদেষ্টা সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলনের নেতৃত্বে এটি প্রিন্ট, ই-পেপার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে পৌঁছায়। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে ইত্তেফাক এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাক্ষী।
৬। দৈনিক যায় যায় দিন
দৈনিক যায় যায় দিন (জয় জয় দিন বা Jaijaidin) বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ১৯৮৪ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে বিখ্যাত সাংবাদিক শফিক রেহমানের সম্পাদনায় এটি দ্রুত আলোচিত হয়, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে এরশাদ সরকারবিরোধী সাহসী অবস্থানের জন্য। এরশাদ শাসনামলে নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও ১৯৯১ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর পুনরায় প্রকাশ শুরু হয় এবং ২০০৬ সালের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক রূপে প্রকাশিত হয়। ওয়েবসাইট jaijaidinbd.com-এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, তথ্যপ্রযুক্তি ও লাইফস্টাইলের খবর প্রকাশ করে, এবং ফেসবুক পেজে প্রায় ১৮ লাখেরও বেশি লাইক থাকায় ডিজিটাল মাধ্যমে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। এটি বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপনের ধারণা প্রথম প্রচলনকারী পত্রিকা হিসেবেও পরিচিত।
যায় যায় দিন তদন্তমূলক সাংবাদিকতা, সাধারণ মানুষের সমস্যা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ইস্যু এবং বিনোদন-সংস্কৃতির কভারেজে জোর দেয়, যা এটিকে অন্যান্য পত্রিকা থেকে আলাদা করে। শফিক রেহমানের নেতৃত্বে এটি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পাঠক-অভিমুখী কনটেন্টের জন্য খ্যাতি অর্জন করে, যদিও পরবর্তীকালে সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক চাপ ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। প্রিন্ট সংস্করণ, ই-পেপার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে পৌঁছে এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে, বিশেষ করে বিনোদন, গসিপ ও সমসাময়িক বিষয়ে আগ্রহী পাঠকদের মধ্যে।
৭। দৈনিক ইনকিলাব
দৈনিক ইনকিলাব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ১৯৮৬ সালের ৪ জুন (কিছু সূত্রে ১ ফেব্রুয়ারি) মাওলানা এম এ মান্নান প্রতিষ্ঠা করেন এটি, এবং এর মূল স্লোগান “দেশ ও মানুষের জন্যই শুধু”। ইনকিলাব এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স লিমিটেডের অধীনে ঢাকা থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকা দেশপ্রেম ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়ে পরিচিত। প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি ওয়েবসাইট dailyinqilab.com-এ ২৪ ঘণ্টা ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, ইসলামী বিষয়, চাকরির খবরসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে খবর প্রকাশ করে। ফেসবুক পেজে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার এবং ইউটিউব চ্যানেল থাকায় ডিজিটাল মাধ্যমে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য, এবং প্রিন্ট প্রচার সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি বলে জানা যায়। বর্তমানে সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন (প্রতিষ্ঠাতার ছেলে) এর নেতৃত্বে এটি চলছে।
ইনকিলাব রাজনীতি, সমাজ, ইসলামী জীবনধারা, আন্তর্জাতিক বিষয় এবং তদন্তমূলক প্রতিবেদনে বিশেষ জোর দেয়, এবং এর সাপ্তাহিক ফিচার পাতাগুলো (যেমন আদিগন্ত, ইসলামী জীবন, ধর্ম দর্শন, শিক্ষাঙ্গন, ক্যারিয়ার, আইটি) পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়। যদিও কখনো কখনো বিতর্কিত প্রতিবেদন (যেমন ২০১৪ সালের সাতক্ষীরা ঘটনা) বা আইনি চাপের সম্মুখীন হয়েছে, তবুও এটি ইসলামপন্থী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খবর উপস্থাপনের জন্য পরিচিত। প্রিন্ট, ই-পেপার ও অনলাইন মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস হিসেবে এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে, বিশেষ করে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী পাঠকদের মধ্যে।
৮। দৈনিক সমকাল
দৈনিক সমকাল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ২০০৫ সালের ৩১ মে বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের সম্পাদনায় এটি যাত্রা শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোর একটিতে পরিণত হয়। হা-মীম গ্রুপের মালিকানাধীন এই পত্রিকা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়, এবং প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি ওয়েবসাইট samakal.com-এ ২৪ ঘণ্টা ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিকসহ সব ধরনের খবর প্রকাশ করে। ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রচার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার কপি, যা এটিকে দেশের অষ্টম সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা করে তোলে। ফেসবুক পেজে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার এবং ইউটিউব চ্যানেল Samakal News-এর মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে এর প্রভাব ব্যাপক। গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুর পর (২০১৮) বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে সাহেদ মোহাম্মদ আলী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সমকাল তদন্তমূলক সাংবাদিকতা, গভীর বিশ্লেষণ এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির কভারেজে বিশেষ জোর দেয়, যার মধ্যে সাপ্তাহিক আয়োজন যেমন কালের খেয়া, চারমাত্রা, নন্দন, প্যাঁচাল, চাকরি নিয়ে ইত্যাদি পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়। বিশিষ্ট কলামিস্টদের লেখা যেমন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, শাহরিয়ার কবির, আনু মুহাম্মদ প্রমুখ এর মতামত পাতাকে সমৃদ্ধ করে। যদিও শুরুর দিকে সাংবাদিক গৌতম দাসের হত্যাকাণ্ড (২০০৫) এবং অন্যান্য ঘটনায় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তবুও নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য এর খ্যাতি অটুট। প্রিন্ট, ই-পেপার (epaper.samakal.com) ও অনলাইন মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ পাঠক প্রতিদিন এর ওপর নির্ভর করে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যের জন্য, যা এটিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে।
৯। দৈনিক মানবজমিন
দৈনিক মানবজমিন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল প্রচারিত ট্যাবলয়েড দৈনিক পত্রিকা। ১৯৯৭ সালে (কিছু সূত্রে ১৯৯৮ সালের ৩১ অক্টোবর) বিশিষ্ট সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর প্রতিষ্ঠায় এটি যাত্রা শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের প্রথম ও সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা ট্যাবলয়েড হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। স্লোগান “কারো তাঁবেদারি করে না” নিয়ে এটি সাহসী ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত। ঢাকা থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং প্রকাশক মাহবুবা চৌধুরী। ওয়েবসাইট mzamin.com বিশ্বের অন্যতম বেশি ভিজিট হওয়া বাংলা নিউজ সাইটগুলোর একটি, যেখানে মাসিক প্রায় ১৯ মিলিয়ন পেজভিউ এবং লক্ষ লক্ষ পাঠক ১৭৯টিরও বেশি দেশ থেকে এটি অনুসরণ করেন। ফেসবুক পেজে ২৬ লাখেরও বেশি লাইক থাকায় ডিজিটাল মাধ্যমে এর প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী।
মানবজমিন রাজনীতি, খেলাধুলা (বিশেষ করে ফুটবল), বিনোদন, অপরাধ, লাইফস্টাইল ও হলিউডের খবরে বিশেষ জোর দেয়, এবং FIFA, UEFA, English Premier League-এর সঙ্গে অধিকৃত সংযোগ এবং Sony Pictures, Warner Bros.-এর সঙ্গে হলিউড চলচ্চিত্র প্রচারে অংশীদারিত্বের কারণে এটি অনন্য। প্রিন্ট সংস্করণে ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি প্রচার (পুরোনো তথ্য অনুযায়ী) এবং অনলাইনের বিপুল জনপ্রিয়তা মিলিয়ে এটি লক্ষ লক্ষ পাঠকের দৈনন্দিন বিনোদন ও তথ্যের প্রধান উৎস। যদিও কখনো কখনো বিতর্কিত প্রতিবেদন বা চাপের সম্মুখীন হয়েছে, তবুও এর ট্যাবলয়েড স্টাইল, আকর্ষণীয় উপস্থাপনা ও পাঠক-অভিমুখী কনটেন্টের জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে।
১০। দৈনিক নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্ত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ২০০৪ সালে দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের অধীনে এটি যাত্রা শুরু করে, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মীর কাসেম আলী (জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিবিদ)। স্লোগান “নতুন দিগন্তের সন্ধানে” নিয়ে এটি রাজনীতি, সমাজ, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, ধর্মীয় বিষয় ও আন্তর্জাতিক খবরে বিশেষ জোর দেয়। বর্তমানে সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দীন এবং প্রকাশক শামসুল হুদা, এফসিএ। ওয়েবসাইট dailynayadiganta.com-এ ২৪ ঘণ্টা লাইভ নিউজ প্রকাশিত হয়, এবং ফেসবুক পেজে প্রায় ৯৫ লাখেরও বেশি লাইক থাকায় ডিজিটাল মাধ্যমে এর প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রিন্ট সংস্করণে প্রতিদিন প্রায় ১.৫ লাখ কপি প্রচারিত হয় বলে জানা যায়, এবং এর সঙ্গে ডিগন্তা টিভি (যদিও বর্তমানে বন্ধ) ছিল এর সহযোগী মাধ্যম।
নয়া দিগন্ত তদন্তমূলক সাংবাদিকতা, গভীর বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন ফিচার ম্যাগাজিন (যেমন অবকাশ, থেরাপি, সতরঙ্গ) এর মাধ্যমে পাঠকদের আকর্ষণ করে। যদিও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি (বিশেষ করে ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী) এবং অতীতে বিতর্ক (যেমন শাহবাগ আন্দোলনকালীন আক্রমণ, আইসিটি-সংক্রান্ত অভিযোগ) এর সম্মুখীন হয়েছে, তবুও এর প্রচার সংখ্যা ও পাঠকপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। প্রিন্ট, ই-পেপার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ পাঠক প্রতিদিন এর ওপর নির্ভর করে সঠিক ও বৈচিত্র্যময় তথ্যের জন্য, যা এটিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে।
১১। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (The Daily Star Bangla) বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও প্রভাবশালী অনলাইন বাংলা সংবাদপত্র, যা বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক The Daily Star-এর বাংলা সংস্করণ। The Daily Star ১৯৯১ সালের ১৪ জানুয়ারি সৈয়দ মোহাম্মদ আলী ও মাহফুজ আনামের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক হিসেবে পরিচিত। বাংলা সংস্করণটি (bangla.thedailystar.net) মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত, যেখানে ২৪ ঘণ্টা ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, প্রযুক্তি, লাইফস্টাইল ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। স্লোগান “সাহসিকতা • সততা • সাংবাদিকতা” নিয়ে এটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও উদারপন্থী সাংবাদিকতার জন্য খ্যাত। ফেসবুক পেজে লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ পাঠকের কাছে পৌঁছে এটি ডিজিটাল যুগে বাংলা ভাষায় নির্ভরযোগ্য তথ্যের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা মূলত তদন্তমূলক প্রতিবেদন, গভীর বিশ্লেষণ, সাক্ষাৎকার ও ফিচারের ওপর জোর দেয়, যা শহুরে ও শিক্ষিত পাঠকদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়। মাহফুজ আনামের সম্পাদনায় পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্ম গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার পক্ষে সোচ্চার থাকে। যদিও অতীতে রাজনৈতিক চাপ, মামলা ও সাম্প্রতিক সময়ে (যেমন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা) চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, তবুও এর অঙ্গীকার অটুট। প্রিন্ট সংস্করণ না থাকলেও অনলাইন, অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়া মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ পাঠক প্রতিদিন এর ওপর নির্ভর করে সঠিক ও সময়োপযোগী সংবাদের জন্য, যা এটিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।
১২। দৈনিক কালবেলা
দৈনিক কালবেলা বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ১৯৯১ সালের ২৫ জানুয়ারি সরকারের কাছ থেকে প্রকাশের অনুমতি পেয়ে এটি যাত্রা শুরু করে, স্বৈরাচার পতনের পরবর্তী গণতান্ত্রিক যুগের প্রেক্ষাপটে। কালবেলা মিডিয়া লিমিটেডের অধীনে প্রকাশিত এই পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, এবং প্রধান সম্পাদক হিসেবে আবেদ খান (২০২২ সালে যোগদান করেন, যদিও পরবর্তীতে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে)। স্লোগান “আঁধার পেরিয়ে” নিয়ে এটি ব্রডশিট আকারে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়, এবং প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি ওয়েবসাইট kalbela.com-এ ২৪ ঘণ্টা লাইভ নিউজ প্রদান করে। ২০২২ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী প্রচার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০-৪১ হাজার কপি, এবং ফেসবুক পেজে ৩৫ লাখেরও বেশি লাইক থাকায় ডিজিটাল মাধ্যমে এর প্রভাব ব্যাপক।
কালবেলা রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, বিশেষ আয়োজন (যেমন সারাবেলা, টি২০ ম্যাগাজিন, ঈদ সংখ্যা) এবং তদন্তমূলক প্রতিবেদনে জোর দেয়, যা পাঠকদের মধ্যে জনপ্রিয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বচ্ছতার পক্ষে সোচ্চার থাকার চেষ্টা করে, যদিও কখনো কখনো বিতর্ক (যেমন মিসইনফরমেশনের অভিযোগ) বা সম্পাদকীয় পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছে। প্রিন্ট, ই-পেপার (epaper.kalbela.com), ইউটিউব চ্যানেল Kalbela News ও সোশ্যাল মিডিয়া মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ পাঠক প্রতিদিন এর ওপর নির্ভর করে সঠিক ও বৈচিত্র্যময় সংবাদের জন্য, যা এটিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে।
